নারীর প্রতি সহিংসতা মূলক আচরণের কারণ

/

নারীর প্রতি সহিংসতা কী

পুরুষ বা নারী কতৃক বিশেষ করে লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে নারীর সঙ্গে যে সহিংস আচরণ করা হয় তা-ই নারীর প্রতি সহিংসতা । নারীর প্রতি এই সহিংস আচরণ কোনো ব্যন্তি বা ব্যক্তিসমষ্টি নানা অজুহাতে নারীর আর্থ-সামাজিক, শারীরিক কিংরা মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঘটিয়ে থাকে। নারীর ওপর শারীরিক বা মানসিকভাবে এই নির্যাতন চালানো হয়। এ সহিংস আচরণ বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, কর্মক্ষেত্র, হাট-বাজার থেকে শুরু করে যেকোনো স্থানে ঘটতে পারে।

আরো পড়ুনঃ 6th week BGS assignment Ans Class 9

নারীর প্রতি সহিংসতা মূলক আচরণের কারণ
Source: Google | Published By: A. Hümeyra Kutluoğlu Karayel | Edited by: Sabbir

নারীর প্রতি সহিংসতা মূলক আচরণ

পুরুষ বা নারী কর্তৃক যেকোনো বয়সের নারীর প্রতি শুধু নারী হওয়ার কারণে যে সহিংস আচরণ করা হয় তাই নারীর প্রতি সহিংসতা। যৌন হয়রানি, নির্যাতন ও ধর্ষণ, মনগড়া ফতোয়া, নারী ও পাচার, এসিড নিক্ষেপ, স্ত্রী প্রহার, যৌতুক সম্পর্কিত নির্যাতন, শিক্ষা বঞ্চনা, অধিক কাজ চাপানো প্রভৃতি নারীর প্রতি সহিংসতার অন্তর্ভূক্ত। কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে নারীর প্রতি সহিংসতা বিদ্যমান থাকলে সে সমাজের বা রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিভিন্ন কাজে নারী সর্বদা অপারদর্শী, অদক্ষ হিসাবে পরিগণিত হয়। বাইরের বিভিন্ন সামাজিক ও ধমীয় আচার-অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত  রাখা, যৌতুক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, ক্রমাগত কন্যা সন্তানের জন্ম ও এর ফলে পুত্রসন্তানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা প্রভৃতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় | ও ইভটিজিং তথা নারীর প্রতি সহিংসতার অন্যতম কারণ।

নারীর প্রতি সহিংসতা মূলক আচরণের কারণ

নারীর প্রতি সহিংসতার বহু কারণ রয়েছে।

১। নারীকে সর্বদা অপারদর্শী অদক্ষ হিসেবে পরিগনিত করা।
২। নারীকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখা।
৩। গ্রামীণ এলাকায় মনগড়া ফতোয়ে ঘটানো।
৪। কন্যা সন্তানের থেকে পুত্র সন্তানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
৫। নারীকে দুর্বল ও অবলা হিসেবে মনে করা।

৬। দারিদ্র‍্যের কারণে অনেক সময়ই নারীরা সহিংসতার শিকার হয়।
৭। অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারনে যৌতুক প্রথার জন্য নারী সহিংসতা দেখা যায়।
৮। যৌন হয়রানিও এক্ষেত্রে একটি অন্যতম কারন।

এভাবে মতলবি ফতোয়া,বিভিন্ন সামাজিক কুপ্রথা,বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ,দারিদ্র্যতা ইত্যাদি নারী সহিংসতার অন্যতম কারণ।

নারীর প্রতি সহিংসতা মূলক আচরণের বয়সভিত্তিক কারণ

১.জন্মের পূর্বে – ছেলে সন্তানের লোভ সবচেয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার সবচেয়ে বড় কারণ। কুসংস্কারী পিতা-মাতা, মেয়ে সন্তান জন্মদানের সংবাদ তার ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই জানতে পারলে, তারা গর্ভপাত করার সিদ্ধান্ত নেন। আর তার পরিনাম ভোগ করতে হয় কেবল ভ্রুণ অবস্থায় থাকা নিষ্পাপ শিশুটিকে

২.শৈশব – একমাত্র পুত্র পিতামাতার নাম এবং বংশকে উজ্জ্বল রাখবে, এবং কন্যা হলো ‘পরের ধন’। এই ধারণার কারণে, অনেক বাবা-মা তাদের কন্যাদের যথাযথ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেন না; এটি নারী সাক্ষরতার হার থেকে স্পষ্ট। একজন শিক্ষিত মহিলা কেবল তার পরিবারেরই নয়, গোটা জাতির অমূল্য সম্পদ। তদুপরি, একটি মেয়ে শিশু সন্তানের স্বাস্থ্যের পরিচর্যা পিতামাতার দ্বারা সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মধ্যে অপুষ্টি বেশি হওয়ায় এটি দৃশ্যমান। আর একটি বড় সমস্যা হল ‘বাল্য বিবাহ’ যা বাড়ন্ত মেয়ের সামগ্রিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক।

৩. কৈশোর – এই পর্যায়ে নারীদের প্রতি সহিংসতার পিছনে পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবই প্রাথমিক কারণ। পুরুষ জাতি অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এই উচ্চজাত বোধটি নারী এবং পুরুষের মধ্যে বৈষম্যের রেখা টেনে দেয়। সুরক্ষার অভাবে নারীদের ভয়ে ভয়ে বেঁচে থাকতে হয়। শারীরিক সহিংসতা, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ আরও কত কি!

৪. বিবাহ – মহিলাকে একাধিক ভূমিকা পালন করতে হয়, তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একটি বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেয়। তাকে হয়ে উঠতে হয় ‘নিখুঁত’ স্ত্রী, একজন ‘প্রেমময়’ মা এবং একটি “যত্নশীল” পুত্রবধূ; এত কিছুর পিছনে ছুটতে ছুটতে তার স্বাভাবিক স্বাস্থের ব্যাঘাত ঘটে ।আবার নারীকেই নিতে হয় শিশু লালন পালনের দায়িত্ব । সাম্প্রতিক প্রসূতি বেনিফিট আইন যা প্রসূতি পাতা না দিয়ে প্রসূতি পাতা 26 সপ্তাহে বাড়িয়ে তোলে এই ধারণাটিকে আরও জোরদার করে। অন্যদিকে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো প্রচলিত ‘তিন তালাক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন স্বামী যে কোনও সময় স্ত্রীর প্রতি তার দায়বদ্ধতা এড়াতে পারেন।সেই সাথে শ্বশুরবাড়ীর লোকেরা গৃহবধূ কে গৃহকর্মীতে রূপান্তর করতে কুন্ঠিত বোধ করেন না।

৫. বৃদ্ধাবস্থা – নির্ভরতা বৃদ্ধ নারীদের প্রতি সহিংসতার সবচেয়ে বড় কারণ। বৃদ্ধ বয়সী মহিলারা তাদের সুরক্ষার জন্য হয় স্বামী বা সন্তানের উপর নির্ভরশীল। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেওয়ার জন্য তখন তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান থাকেন না। এই ধরনের নির্ভরতা তাদের মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বিশাল আঘাত তৈরি করে।

নারীর জীবনে সহিংসতার প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। এতে নারীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয় এবং কখনো কখনে মৃত্যুরও কারণ হয় । এক কথায় সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর নারী সহিংসত অত্যন্ত ভয়াবহ প্রভাব সৃষ্টি করে।

আরো পড়ুনঃ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এর ১৩ টি পদক্ষেপ

Leave a Comment