মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন হয়েছে প্রাতঃস্মরণীয় সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধরে আমরাও হব বরণীয়

/

মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন হয়েছে প্রাতঃস্মরণীয় সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধরে আমরাও হব বরণীয় ভাবসম্প্রসারণ

ভাবসম্প্রসারণ: মহান ব্যক্তিগণ মহৎ কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। তাদের আদর্শ অনুসরণ করে আমাদেরও উচিত পৃথিবীতে নিজেদেরকে স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করা।

পৃথিবীর অনন্ত বহমানতার বিচারে মানবজীবনকে শৈবালের ওপর জমা হওয়া শিশির বিন্দুর মতােই অস্থায়ী বলা যায়। নশ্বর এ জীবনে অমরত্বের সাধনাই সবচেয়ে বড় সাধনা। সাধারণ মানুষের দৈহিক মৃত্যু ঘটলে তাদের স্মৃতি অস্পষ্ট হতে হতে একসময় পুরােপুরি হারিয়ে যায়। কিন্তু কীর্তিমান ব্যক্তিগণ তাঁদের সৃষ্টিশীল ও সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন। অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা যার অন্তরে থাকে তিনি জীবনকে বৃথা নষ্ট হতে দেন না। নতুন আবিষ্কার, জনকল্যাণমূলক কাজ ইত্যাদির মাধ্যমে পৃথিবীতে তাঁর অবস্থানকে অর্থবহ করে তােলার চেষ্টা করেন। মৃত্যুর পরও দেশ, জাতির ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণে অবদান রাখার কারণে সকলে তাদের মনে রাখে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অ্যারিস্টটল, আলবার্ট আইনস্টাইন কিংবা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো মহান ব্যক্তিদের এ কারণেই আমরা আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি । তাদের কর্মোদ্যমে পৃথিবী ধন্য হয়েছে। সভ্যতার অগ্রগতিতে তাদের অবদান অসামান্য। পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তারা মানব জাতির জন্য রেখে গিয়েছেন অনুকরণীয় আদর্শ। মহৎ মানুষদের দেখানাে পথে চলতে পারলে অর্থাৎ সৎ পথে থেকেও সৃষ্টিশীল কাজে আত্মনিয়ােগের মাধ্যমে আমরাও তাদের মতাে বরণীয় হতে পারব।

পৃথিবীতে মানুষের অমরত্ব লাভের যে দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা, কেবল মহকর্মের মধ্য দিয়েই তা পূর্ণ হতে পারে। আর এক্ষেত্রে মহামানবদের জীবনযাত্রা ও কর্মপন্থা আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। আমরা যদি তাদের নির্দেশিত পথে চলি এবং সৎ জীবনযাপন করি তবে তাদের মতাে আমরাও পৃথিবীতে অক্ষয় কীর্তি স্থাপন করতে পারব।

Leave a Comment