মিতব্যয়িতা রচনা (700 words) | JSC, SSC |

/

মিতব্যয়িতা রচনার সংকেত

  • ভূমিকা
  • সম্পদ সঞ্জয়
  • মিতব্যয়িতা ও সঞ্চয়
  • মিতব্যয়িতার প্রয়ােজনীয়তা
  • মিতব্যয়িতা ও কার্পণ্য
  • অমিতব্যয়িতার পরিণাম
  • মিতব্যয়িতা ও আজকের সমাজ
  • উপসংহার

মিতব্যয়িতা রচনা

ভূমিকা:

নিরর্থক অপচয় না করে সম্পদের পরিমিত ব্যয়ের অভ্যাসের নাম মিতব্যয়িতা। মিতব্যয়িতা মানব চরিত্রের একটি বিশেষ গুণ। যে ব্যক্তি প্রচুর উপার্জন করে কিন্তু মিতব্যয়ী নন তাকে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয়, ফলে তার জীবন হয়ে ওঠে অসুখী। পক্ষান্তরে, কোনাে ব্যক্তি অনেক বেশি উপার্জন হয় তাে করে না, কিন্তু তার ব্যয়ে পরিমিতিবােধ আছে তাকে অন্যের কাছে হাত পাততে হয় না, ফলে সে সুখী। তাই ব্যক্তিজীবনে মিতব্যয়িতা চর্চা মানুষকে দেয় দুশ্চিন্তাহীন নান্দনিক জীবন।

সম্পদ সঞ্জয়:

বর্তমান জগতে অর্থ বিনা কোনাে বস্তুই লাভ করা যায় না । তাই মানুষ ক্লান্তিহীন ছুটে চলে অর্থের পিছু পিছু। সম্পদ সঞ্চয়ের জন্যে মানুষ উপার্জন করে ন্যায় পথে এবং অন্যায় পথে। কেউ কেউ সমাজে তার উঁচু অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় অর্থের মাধ্যমে। মনে রাখতে হবে, সম্পদের পর্যাপ্ততাই মানুষের বিচারের মাপকাঠি নয়, তার সম্পদের ব্যয়ের দিকটিও লক্ষ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে সম্পদ সঞ্চয় এবং সম্পদের ব্যয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমন্বয় চর্চার মধ্যেই মিতব্যয়িতা বর্তমান । তাই সম্পদের শুধু সঞ্চয় নয়, এর সুসংগত ব্যয়ও জরুরি।

মিতব্যয়িতা ও সঞ্চয়:

সংগ্রামশীল জীবনে শুধু বর্তমানেই মানুষকে টিকে থাকলে চলে না তাকে ভবিষ্যতের ভাবনাও ভাবতে হয়। যে মানুষের ব্যয়ে সংযম নেই তার পক্ষে ভবিষ্যতের জন্যে সঞয় সহজ নয়। মিতব্যয়ী ব্যক্তি অর্থ ব্যয়ে পরিমিরি।পরিচয় দিয়ে থাকেন। ফলে প্রতি মাসে তার আয় সামান্য হলেও সয়ের সুযােগ থাকে। অমিতব্যয়ী ব্যক্তি সঞ্জয়ী মনােভাবের নন বলে জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত কোনাে দুর্ঘটনা বা দুর্দিনে তার কাছে অর্থ থাকে না। ফলে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই ব্যক্তিজীবনে সঞ্চয়ের প্রয়ােজনকে স্বীকার করতে হবে। আর সঞ্চয় কেবল তার পক্ষেই সম্ভব যে মিতব্যয়ী। মানবজীবনে মিতব্যয়িতাকে ধারণ করতে হবে স্বভাবধর্ম হিসেবে, তবেই সম্ভব সঞয় ও সমৃদ্ধি।

মিতব্যয়িতার প্রয়ােজনীয়তা:

মানবজীবনে মিত্যব্যয়িতার প্রয়ােজন অনিবার্য বলা চলে। কেননা সম্পদের সঠিক ও সঙ্গত ব্যয়ের মধ্যে সুখ ভােগ নিহিত। আজকে যে মানুষ উপার্জনক্ষম সে একদিন উপার্জনে অক্ষম হবে। তরুণ বয়সে যে পরিশ্রম করা যায় তা বার্ধক্যে অসম্ভব। অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে দিনযাপন করা গৌরবের বিষয় নয়। তাই স্বনির্ভর জীবন নিশ্চিত করতে হলে মানুষকে মিতব্যয়ী হয়ে ভবিষ্যতের জন্যে কিছু সঞয়কে করতে হবে । বিত্তবান মানুষ মিতব্যয়ী হলে সমাজে তার দ্বারা নানারকম উন্নতি সাধিত হয়। অযথা অকারণে অপচয় না করে তিনি যদি স্কুল, কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মাণ করেন তাহলে জনকল্যাণ হয় । মধ্যআয়ের সাধারণ মানুষের জীবনেও মিতব্যয়িতার বিশেষ প্রয়ােজন। কেননা জীবনে শেষের দিনগুলাে সুখের করতে হলে তাকে মিতব্যয়ী হতে হবে। ব্যক্তির ব্যক্তিগত মিতব্যয়িতা বৃহৎ অর্থে জাতির জাতীয় মিতব্যয়িতা। বিশ্বে যে জাতি যত মিতব্যয়ী সে জাতি তত স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান। তাই ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে মিতব্যয়িতা প্রয়ােজন।

মিতব্যয়িতা ও কার্পণ্য:

মিতব্যয়িতা ও কৃপণতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সমাজে অনেকে আছেন যারা শতভাগ কৃপণ অথচ তারা। নিজেদের দাবি করেন মিতব্যয়ী হিসেবে । কৃপণ ব্যক্তি তার সম্পদকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। পক্ষান্তরে, মিতব্যয়ী ব্যক্তি সম্পদ আঁকড়ে ধরে না রেখে সঠিক পথে সঠিক সময়ে ব্যয় করেন। সম্পদের ব্যয়ে তার আপত্তি নেই, আপত্তি আছে অপচয়ে এবং অর্থের অব্যবহারে । কৃপণ ব্যক্তি অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা করান না এমন উদাহরণও সমাজে চোখে পড়ে। এ দিক থেকে বিবেচনা করলে বলা যায়, কৃপণ ব্যক্তির কাছে অর্থের মূল্য জীবনের চেয়েও বেশি। পক্ষান্তরে, মিতব্যয়ী ব্যক্তি কিছু অর্থ বসময়ই বরাদ্দ করে রাখেন রােগে-শােকে যেন কাজে লাগানাে যায় । মিতব্যয়ী ব্যক্তি কারও প্রয়ােজনে সহযােগিতা করতে পারেন কিন্তু কৃপণ ব্যক্তির পক্ষে তা অসহজ। তাই মিতব্যয়িতা চর্চা করা মানে কৃপণতা নয়, আবার কৃপণতা মানেও মিতব্যয়িতা নয়। তাই আমাদের কার্পণ্য করা উচিত নয়, হওয়া উচিত মিতব্যয়ী

অমিতব্যয়িতার পরিণাম:

অমিতব্যয়ী ব্যক্তি অতিরিক্ত ব্যয় করতে চায়। অতিরিক্ত ব্যয় করতে যেয়ে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়ােজন হয়। তার ফলে অতিরিক্ত অত্যাচারী হয়ে ওঠা তার পক্ষে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন না করলে প্রচুর টাকা হাতে।ধরা দেয় না, তাই অমিতব্যয়ী ব্যক্তি হয়ে ওঠে অসংযমী। অমিতব্যয়ী ব্যক্তির জীবনে স্থিতিশীলতা থাকে না, ফলে সমাজজীবনে সে। অগোছালাে হয়ে পড়ে। অমিতব্যয়ী ব্যক্তি স্বভাবগত ভাবেই নিয়ন্ত্রণহীন। প্রচুর অর্থ তার চাই । অর্থের বিপুল বাসনা তাকে পাপের
দিকে টানে। অমিতব্যয়ী ব্যক্তি নিয়ত অপব্যয়ী। অপব্যয়ের পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করতেই কবি বলেছেন-

যে জন দিবসে
মনের হরষে।
জ্বালায় মােমের বাতি
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর
নিশীথে প্রদীপ ভাতি।’

মিতব্যয়িতা ও আজকের সমাজ:

আজকের সমাজে মিতব্যয়িতা চর্চা হ্রাস পেয়েছে আশঙ্কাজনকভাবে । মিতব্যয়িতা চর্চা হচ্ছে। বলেই অতিরিক্ত পাবার বাসনা থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি ইত্যাদি। একজনের বিপুল অর্থকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছে অন্যজন । উঁচুতে ওঠার প্রতিযােগিতা মানুষকে করে তুলছে মূল্যবােধহীন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজে,বিশেষ করে তরুণ সমাজে । মিতব্যয়িতা চর্চাই পারে আজকের সমাজকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ।

উপসংহার:

মিতব্যয়িতা চর্চা হিতকর, পক্ষান্তরে অমিতব্যয়িতা ক্ষতিকর। মিতব্যয়িতা মানব জীবনের একটি উত্তম গুণ। এ গুণটি যত বেশি মানুষের মধ্যে কার্যকর হবে তত বেশি শান্তি ও সমৃদ্ধির সাক্ষাৎ পাবে মানুষ । একটি সমৃদ্ধিশীল সমাজ ও দেশ গঠনে তাই মিতব্যয়িতার প্রয়ােজন অনস্বীকার্য।

Leave a Comment