বই পড়া অনুচ্ছেদ | বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ রচনা

/

প্রশ্নঃ বই পড়া নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ ।

উত্তরঃ

বই জ্ঞানের আধার। মানুষের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু বই। বইয়ের পাতার কালাে অক্ষরে সঞ্চিত হয়ে আছে মানব জাতির হাজার পরের জ্ঞানপ্রবাহ। জ্ঞানের ধারক হিসেবে বই অতীত আর বর্তমানের সংযােগসেতু। মানুষের অভ্যাসগুলাের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হচ্ছে বই পড়া। এটি নির্মল আনন্দের উৎস। বইপ্রেমী মানুষমাত্রই বই পড়ার আনন্দ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। মানুষ যুগে যুগে বই পড়ার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে, নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জগৎকে করেছে বিস্তৃত। মনের প্রসারতার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। প্রাত্যহিক জীবনের দুঃখ-দুর্দশা, ক্লান্তি-হতাশা মানুষের মনকে যখন বিষিয়ে তােলে তখন বই পড়ার মাধ্যমেই পাওয়া যেতে পরে অপার্থিব আনন্দ। মনীষীদের জীবনী পাঠে তাঁদের বই পড়ার অভ্যাস ও মানস গঠনে এর প্রভাব সম্পর্কে জানা যায়। বিপুলা এ পৃথিবীকে জানার জন্য আমাদেরকে বইয়ের দ্বারস্থ হতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিচিত্র শাখায় মানুষের ধ্যান-ধারণার যে প্রতিফলন ঘটেছে তা স্থান পেয়েছে বইয়ের পাতায় । সাহিত্যের রস আস্বাদন, বিজ্ঞানের বৈচিত্র্যময় জগতে হারিয়ে যাওয়া কিংবা
ইতিহাস, দর্শন তথা জ্ঞানের যেকোনাে শাখায় বিচরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে বই পড়া। তবে পড়ার জন্য বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। পাঠকের রুচি ও মানসিক পরিপক্কতার আলােকে বই নির্বাচন করতে হবে। একটি ভালাে বই পাঠকমনের সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন করতে পারে, প্রিয় কবির রচিত প্রিয় কবিতার একটি পঙক্তি পাঠকমনে মধুর আবেশ ছড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে একটি বাজে বই পাঠকের মনকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে। সুনির্বাচিত বই পাঠ আনন্দ লাভের পাশাপাশি নিঃসঙ্গতা ঘােচানাের এক শ্রেষ্ঠ উপায়। বই পড়ার মাধ্যমে ঘরে বসেই আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের সান্নিধ্য পেতেপারি, পরিচিত হতে পারি তাদের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে । নশ্বর এ পৃথিবীতে অপার্থিব আনন্দ কেবল বই পড়াতেই পাওয়া সম্ভব। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের স্পর্শময় পূর্ণাঙ্গ জীবন গঠনে বই পড়ার গুরুত্ব তাই অপরিসীম।

বই পড়া অনুচ্ছেদ ২

বই হলাে জ্ঞানের আধার। মানবজীবনের চিন্তা-চেতনার বাম্ভব প্রতিফলন কালির অক্ষরে মুদ্রিত হয় বইয়ের পাতায়। তাই বই মানুষের চিরন্তন বিশ্বস্ত সঙ্গী। বই মানুষের জীবনকে করে তােলে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক। মানুষের অভ্যাসগুলাের
মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হচ্ছে বই পড়া। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের মনে আসে আনন্দ-বেদনার কাব্যিক, দার্শনিক সত্যবোধ। বই পড়ার মাধ্যমেই মানুষের জীবন হয়ে উঠে সুর ও নিখুঁত। মনে এনে দেয় সহানুভূতি, মায়া ও প্রেম-প্রীতি। যুগে যুগে বই মানবমনে এনে দিয়েছে ত্যাগের দীক্ষা, সত্য ও সুন্দরের সাধনা। ইতিহাস, ভূগােল, রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বই পাঠ করে মানুষ মেটাচ্ছে তাদের মনের ক্ষুধা। বই মানুষের দৃষ্টিকে করে উদার, মনকে করে উন্নত। সকল দুঃখ-কষ্ট, শােক-তাপ, হতাশা-অবসাদ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ পৃথিবীতে বইই মানুষের আনন্দ লাভের পরম বন্ধু। যুগ যুগ ধরে মানুষ তাদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের কথা অনাগত প্রজন্মের জন্য লিখে গেছেন বইয়ে। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা। মুহুর্তেই পরিচিত হতে পারি সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে। আর যুগে যুগে আবির্ভূত মহামানব ও মনীষীদের স্বপ্ন ও আদর্শের কথা জানতে পারি। তাদের পথ অনুসন্ত্রণ করে নিজেদের মধ্যে শুভ্র চেতনার উন্মেষ ঘটাতে পারি। সেই সাথে তৈরি করে নিতে পারি আমাদের ভবিষ্যৎ চলার পথ। বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে যথার্থ শিক্ষিত করে তােলে। কারণ, সুশিক্ষিত হতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। এর জন্য মনের প্রসার ঘটানাে চাই। আর একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমেই তা অর্জন সম্ভব। তা ছাড়া একটি ভালাে বই মানুষের নিঃসঙ্গতা ঘােচানাের এবং নির্মল আনন্দলাভের শ্রেষ্ঠ উপায়। একটি মানসম্মত বই আমাদের আলাের পথ দেখাতে পারে, দূর করতে পারে আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার। তদুপরি, বই পড়ার মাধ্যমেই বিকাশ ঘটে সভ্যতা ও সংস্কৃতির। বই মানুষকে সৃষ্টিশীল ও আনন্দপ্রিয় করে তােলে। উন্নত জাতি গঠনে তাই বই পড়ার বিকল্প নেই।

বই পড়া অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Leave a Comment